ভাসু বিহার (নরপতির ধাপ)
Vasu Vihara
গুপ্তোত্তর যুগের দুটি বৌদ্ধ সংঘারাম ও একটি ক্রুশাকৃতি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ; হিউয়েন সাংয়ের বর্ণিত 'পো-শি-পো' বিহার বলে ধারণা।
শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার গ্রামে অবস্থিত ভাসু বিহার স্থানীয়ভাবে "নরপতির ধাপ" নামে পরিচিত। ব্রিটিশ আমলে মানুষ একে "ভুশ্বুবিহার"ও বলত। এটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ প্রত্নস্থল।
ইতিহাস
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দের দিকে পুণ্ড্রনগর ভ্রমণের সময় নগরের পশ্চিমে "পো-শি-পো" নামে এক বিশাল বিহারের বর্ণনা দেন, যেখানে সাতশো ভিক্ষু থাকতেন। আলেকজান্ডার কানিংহামসহ অনেক গবেষক ভাসু বিহারকেই সেই বিহার মনে করেন। ১৯৭৩–৭৪ সালে প্রথম খনন শুরু হয় এবং পরের দুই মৌসুম চলে।
স্থাপত্য
- ছোট সংঘারাম: উত্তর-দক্ষিণে ৪৯ মিটার, পূর্ব-পশ্চিমে ৪৬ মিটার; চার বাহুতে ভিক্ষুদের ২৬টি কক্ষ, সামনে ঘোরানো বারান্দা, পূর্ব বাহুর মাঝে প্রবেশপথ
- বড় সংঘারাম: একই নকশার তবে আয়তন ও কক্ষ সংখ্যা বেশি; মাঝের খোলা অংশ সম্ভবত মিলনায়তন
- মন্দির: মাঝখানে বর্গাকার মণ্ডপ এবং চারপাশে ধাপে ধাপে উঁচু প্রদক্ষিণপথ — প্রায় ক্রুশাকৃতি নকশা
প্রাপ্ত নিদর্শন
প্রায় ৮০০ প্রত্নবস্তু পাওয়া গেছে — ব্রোঞ্জের বুদ্ধমূর্তি, পোড়ামাটির ফলক ও সিলমোহর, মূল্যবান পাথরের গুটিকা, অলংকৃত ইট, মাটির প্রদীপ ও মৃৎপাত্রের টুকরা।
কাছেই
প্রায় ১–২ কিমি দূরে বিহার ধাপ (তোতারাম পণ্ডিতের ধাপ) — আরেকটি বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ। দুটি একসঙ্গে দেখে নিন।
যাতায়াত
মহাস্থান বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজি বা অটোতে বিহার হাট হয়ে ভাসু বিহার। গ্রামের সরু রাস্তা — বর্ষায় কাদা হতে পারে।
উইকিপিডিয়া থেকে (ইংরেজি)
Vasu Vihara or Vasu Bihar is a famous archaeological site in Bangladesh. It is locally popularly known as Narapatir Dhap. It is one of the ancient Buddhist heritage of Bangladesh.
উইকিপিডিয়ায় বিস্তারিত পড়ুন →ছবি




মানচিত্রে অবস্থান
🧭 গুগল ম্যাপে পথনির্দেশনাআরও দর্শনীয় স্থান
মহাস্থানগড়
আড়াই হাজার বছরের পুরোনো পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ — বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর-প্রত্নস্থল এবং ২০১৬ সালের সার্ক সাংস্কৃতিক র…
মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরে মৌর্য থেকে মুসলিম যুগের মুদ্রা, মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, শিলালিপি ও অলংকার সংরক্ষিত।
হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহ.)-এর মাজার
'মাহী সওয়ার' নামে খ্যাত সুফি সাধক শাহ সুলতান বলখীর মাজার; মুঘল আমলের মসজিদ ও দরগা ঘিরে সারা বছর দর্শনার্থীর ভিড়।