নোটিশ
বগুড়া পোর্টালে স্বাগতম! আপনার প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার তথ্য বিনামূল্যে যুক্ত করুন • রক্তদাতা হিসেবে নিবন্ধন করুন — একজনের জীবন বাঁচান • জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে কল করুনবগুড়া পোর্টালে স্বাগতম! আপনার প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার তথ্য বিনামূল্যে যুক্ত করুন • রক্তদাতা হিসেবে নিবন্ধন করুন — একজনের জীবন বাঁচান • জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে কল করুন
হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহ.)-এর মাজার

হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহ.)-এর মাজার

Shrine of Shah Sultan Balkhi

'মাহী সওয়ার' নামে খ্যাত সুফি সাধক শাহ সুলতান বলখীর মাজার; মুঘল আমলের মসজিদ ও দরগা ঘিরে সারা বছর দর্শনার্থীর ভিড়।

মহাস্থান বাসস্ট্যান্ড থেকে সামান্য পশ্চিমে, প্রাচীন দুর্গনগরীর দক্ষিণ-পূর্ব কোণের উঁচু ঢিবিতে হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহ.)-এর মাজার। এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় স্থান।

কে ছিলেন শাহ সুলতান বলখী

ঐতিহ্য অনুযায়ী তিনি আফগানিস্তানের বলখ রাজ্যের শাসকপুত্র ছিলেন, পরে সিংহাসন ছেড়ে দরবেশ হন। প্রথমে তিনি সন্দ্বীপে আসেন, তারপর পুণ্ড্রনগরে। তাঁর আগমনের সময়কাল নিয়ে মতভেদ আছে — কোনো সূত্রে একাদশ শতক, কোনো সূত্রে চতুর্দশ শতক।

"মাহী সওয়ার" নামের কারণ

কিংবদন্তি অনুযায়ী তিনি শিষ্যদের নিয়ে বিশাল মাছ-আকৃতির নৌকায় চড়ে করতোয়া পার হয়ে এসেছিলেন। ফারসিতে "মাহী" মানে মাছ — তাই তিনি "মাহী সওয়ার" (মাছের পিঠে আরোহী)।

রাজা পরশুরামের সঙ্গে সংঘাত

লোককাহিনি বলে, তাঁর প্রচারে রাজার সেনাপতি-মন্ত্রীসহ অনেকে ইসলাম গ্রহণ করলে রাজা পরশুরামের সঙ্গে বিরোধ বাধে। যুদ্ধে রাজা পরাজিত ও নিহত হন; শোকে রাজকন্যা শীলাদেবী করতোয়ায় ঝাঁপ দেন — সেই স্থান আজও "শীলাদেবীর ঘাট" নামে পরিচিত।

মুঘল পৃষ্ঠপোষকতা

  • ১৬৮৫ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেব মাজারের জন্য নিষ্কর জমি দেন এবং সৈয়দ মুহাম্মদ তাহির, সৈয়দ আবদুর রহমান ও সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাকে সনদ প্রদান করেন
  • ১৭১৯ সালে সম্রাট ফররুখসিয়ারের আমলে খোদাদিল মাজারের কাছে এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করেন, যা আজও টিকে আছে

দর্শনার্থীদের জন্য

  • সারা বছর ধর্মপ্রাণ মানুষ জিয়ারত ও মানত করতে আসেন
  • মাজারের সামনে সারি সারি কটকটির দোকান — মহাস্থানের তবারক হিসেবে পরিচিত
  • শালীন পোশাক পরে যান এবং ধর্মীয় পরিবেশের মর্যাদা রক্ষা করুন
  • ভিড়ের মধ্যে মূল্যবান জিনিসপত্র সাবধানে রাখুন

যাতায়াত

বগুড়া শহরের সাতমাথা বা চারমাথা থেকে রংপুরগামী লোকাল বাস, সিএনজি বা অটোরিকশায় মহাস্থান বাসস্ট্যান্ডে নামুন (১৩ কিমি, ২০–৩০ মিনিট)। সেখান থেকে রিকশা-ভ্যানে প্রত্নস্থলগুলোতে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে বগুড়াগামী বাসে সরাসরি মহাস্থানেও নামা যায়।

ছবি

হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহ.)-এর মাজার — ছবি 1
ছবি: Masum-al-hasan • CC BY-SA 4.0 • উইকিমিডিয়া কমন্স
হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহ.)-এর মাজার — ছবি 2
ছবি: asik mahbub • CC BY-SA 4.0 • উইকিমিডিয়া কমন্স

মানচিত্রে অবস্থান

🧭 গুগল ম্যাপে পথনির্দেশনা

আরও দর্শনীয় স্থান