মহাস্থানগড়
Mahasthangarh
আড়াই হাজার বছরের পুরোনো পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ — বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর-প্রত্নস্থল এবং ২০১৬ সালের সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী।
মহাস্থানগড় বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন নগরকেন্দ্রের ধ্বংসাবশেষ। প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন জনপদের রাজধানী পুণ্ড্রনগর এখানে গড়ে উঠেছিল অন্তত খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয়-চতুর্থ শতকে। এরপর প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন ও পরে মুসলিম শাসকদের অধীনে এটি প্রাদেশিক রাজধানী বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। ২০১৬ সালে মহাস্থানগড়কে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
নামের গল্প
স্কন্দপুরাণের এক আখ্যান অনুযায়ী, বিষ্ণুর অবতার পরশুরাম করতোয়ার তীরে তপস্যা করে সিদ্ধিলাভ করেন এবং স্থানটির নাম দেন "মহাস্থান"। পরে পুণ্ড্ররাজ্যের রাজধানী হলে এটি পুণ্ড্রনগর বা পৌণ্ড্রবর্ধন নামে পরিচিত হয়। ১৬৮৫ সালের একটি ফরমানে "মস্তানগড়" নামটিও পাওয়া যায়।
দুর্গনগরী
- আয়তাকার দুর্গটি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১.৫২ কিমি এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১.৩৭ কিমি; আয়তন প্রায় ১৮৫ হেক্টর
- চারপাশের প্রাচীর আশপাশের ভূমি থেকে ১১–১৩ মিটার উঁচু; ছয়টি ভিন্ন যুগে স্তরে স্তরে নির্মিত
- পূর্ব দিক দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া — হিউয়েন সাংয়ের সময় এটি ছিল বিশাল নদী
- ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৬ মিটার উঁচু, বরেন্দ্রের লাল মাটিতে — তাই বন্যামুক্ত, নগর পত্তনের আদর্শ স্থান
প্রবেশদ্বার ও ভেতরের প্রত্নস্থল
- প্রবেশদ্বার: কাটা দুয়ার (উত্তর), দোরাব শাহ তোরণ (পূর্ব), বুড়ির ফটক (দক্ষিণ), তাম্র দরজা (পশ্চিম)
- জিয়ৎ কুণ্ড — কিংবদন্তির "জীবনদায়ী" কূপ
- পরশুরামের প্রাসাদ, মানকালীর ঢিবি, বৈরাগীর ভিটা, খোদার পাথর ভিটা, মুনির ঘোন
- উত্তর-পূর্ব কোণে জাহাজঘাটা — করতোয়ায় নামার সিঁড়ি
- শাহ সুলতান বলখীর মাজার ও মুঘল আমলের মসজিদ
আবিষ্কার ও খনন
১৮০৮ সালে ফ্রান্সিস বুকানন হ্যামিলটন প্রথম জায়গাটি চিহ্নিত করেন; ১৮৭৯ সালে আলেকজান্ডার কানিংহাম একে পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী হিসেবে শনাক্ত করেন। ১৯২৮–২৯ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার কে এন দীক্ষিতের তত্ত্বাবধানে প্রথম প্রথাগত খনন হয়। ১৯৩১ সালে পাওয়া যায় বিখ্যাত ব্রাহ্মী শিলালিপি। ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথ খননে এখানে ১৮টি নির্মাণস্তর উন্মোচিত হয়েছে — প্রাক-মৌর্য থেকে মুসলিম যুগ পর্যন্ত টানা বসতির প্রমাণ।
যা পাওয়া গেছে
ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রা, ঢালাই করা তামার মুদ্রা, উত্তর ভারতীয় কালো মসৃণ মৃৎপাত্র, পোড়ামাটির ফলক, বুদ্ধ ও বিষ্ণুমূর্তি, ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য, মূল্যবান পাথরের পুঁতি, সিলমোহর — এর বড় অংশ মহাস্থান জাদুঘরে প্রদর্শিত।
আশপাশে যা দেখবেন
গোবিন্দ ভিটা ও জাদুঘর (দুর্গের উত্তরে), গোকুল মেধ (দক্ষিণে ২–৩ কিমি), ভাসু বিহার ও বিহার ধাপ (উত্তর-পশ্চিমে ৪–৭ কিমি), খুল্লনার ধাপ, গোদাইবাড়ি ধাপ, পদ্মার বাড়ি, শীলাদেবীর ঘাট।
যাতায়াত
বগুড়া শহরের সাতমাথা বা চারমাথা থেকে রংপুরগামী লোকাল বাস, সিএনজি বা অটোরিকশায় মহাস্থান বাসস্ট্যান্ডে নামুন (১৩ কিমি, ২০–৩০ মিনিট)। সেখান থেকে রিকশা-ভ্যানে প্রত্নস্থলগুলোতে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে বগুড়াগামী বাসে সরাসরি মহাস্থানেও নামা যায়।
ঘোরার পরামর্শ
- পুরো এলাকা ভালোভাবে দেখতে অন্তত একটি পূর্ণ দিন রাখুন; ভ্যান/অটো রিজার্ভ নিলে সুবিধা
- শীতকাল (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি) ঘোরার সবচেয়ে ভালো সময়
- প্রত্নস্থলের ইট-পাথর তুলবেন না বা দেয়ালে উঠবেন না — এগুলো সংরক্ষিত পুরাকীর্তি
- মাজারের সামনে থেকে মহাস্থানের বিখ্যাত কটকটি কিনে নিতে পারেন
উইকিপিডিয়া থেকে (ইংরেজি)
Mahasthangarh is the earliest urban archaeological site discovered so far in Bangladesh. The village Mahasthan in Shibganj upazila of Bogra District contains the remains of an ancient city which was called Pundranagara or Paundravardhanapura in the territory of Pundravardhana. A limestone slab bearing six lines in Prakrit in Brahmi script recording a land grant, discovered in 1931, dates Mahasthangarh to at least the 3rd century BCE. It was an important city under the Maurya Empire. The fortified area of the city was in use until the 8th century CE.
উইকিপিডিয়ায় বিস্তারিত পড়ুন →ছবি





মানচিত্রে অবস্থান
🧭 গুগল ম্যাপে পথনির্দেশনাআরও দর্শনীয় স্থান
মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরে মৌর্য থেকে মুসলিম যুগের মুদ্রা, মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, শিলালিপি ও অলংকার সংরক্ষিত।
হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহ.)-এর মাজার
'মাহী সওয়ার' নামে খ্যাত সুফি সাধক শাহ সুলতান বলখীর মাজার; মুঘল আমলের মসজিদ ও দরগা ঘিরে সারা বছর দর্শনার্থীর ভিড়।
ভাসু বিহার (নরপতির ধাপ)
গুপ্তোত্তর যুগের দুটি বৌদ্ধ সংঘারাম ও একটি ক্রুশাকৃতি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ; হিউয়েন সাংয়ের বর্ণিত 'পো-শি-পো' বিহার বলে ধ…