মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর
Mahasthan Archaeological Museum
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরে মৌর্য থেকে মুসলিম যুগের মুদ্রা, মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, শিলালিপি ও অলংকার সংরক্ষিত।
মহাস্থানগড়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে এক ছাদের নিচে আনতে ১৯৬৭ সালে করতোয়ার কিনারায় গোবিন্দ ভিটার ঠিক বিপরীতে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে তিন একরের হলেও পরে সম্প্রসারিত হয়ে এর আয়তন এখন প্রায় দশ একর। জাদুঘরটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর পরিচালনা করে।
কী কী দেখবেন
- খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকের পোড়ামাটির দণ্ডায়মান মূর্তি
- সপ্তম–একাদশ শতকের পোড়ামাটির ফলক — যাতে তৎকালীন মানুষ, পশুপাখি ও লোকজীবনের ছবি
- অষ্টম–দ্বাদশ শতকের স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা, ছাপাঙ্কিত মুদ্রা
- একাদশ শতকের বিষ্ণুমূর্তি, দ্বাদশ শতকের ব্রহ্মা, কালো পাথরের অম্বিকা
- সপ্তম–নবম শতকের ব্রোঞ্জের বুদ্ধমূর্তি
- পঞ্চদশ শতকের আরবি শিলালিপি, অষ্টধাতুর বালা, অলংকৃত মাটির বল
- পাথরের দরজার চৌকাঠ, স্তম্ভ, শিবলিঙ্গ ও পাথরের নালা (বাইরের চত্বরে)
- মহাস্থান ছাড়াও পাহাড়পুর, শেরপুর, ভবানীপুর ও দিনাজপুর থেকে আনা নিদর্শন
বাগান ও পরিবেশ
প্রদর্শনী কক্ষের বাইরে ফুল-ফলের সুসজ্জিত বাগান। মহাস্থানগড়ের টিলাসংলগ্ন আমবাগানে পিকনিক স্পট আছে। পাশে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রেস্ট হাউস।
সময়সূচি (প্রচলিত)
- গ্রীষ্মকাল: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা; শীতকাল: সকাল ৯টা–বিকেল ৫টা
- দুপুর ১টায় ৩০ মিনিট মধ্যাহ্ন বিরতি; শুক্রবার জুমার সময় দীর্ঘ বিরতি
- রবিবার পূর্ণ দিবস ও সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ; সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ
- টিকিট কাউন্টারে প্রত্নস্থান বিষয়ক বাংলা-ইংরেজি বই পাওয়া যায়
সময়সূচি ও টিকিটের মূল্য পরিবর্তন হতে পারে — যাওয়ার আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট দেখে নিন।
যাতায়াত
বগুড়া শহরের সাতমাথা বা চারমাথা থেকে রংপুরগামী লোকাল বাস, সিএনজি বা অটোরিকশায় মহাস্থান বাসস্ট্যান্ডে নামুন (১৩ কিমি, ২০–৩০ মিনিট)। সেখান থেকে রিকশা-ভ্যানে প্রত্নস্থলগুলোতে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে বগুড়াগামী বাসে সরাসরি মহাস্থানেও নামা যায়।
পরামর্শ
জাদুঘর আগে দেখে তারপর দুর্গনগরী ঘুরলে প্রত্নস্থলগুলো বোঝা সহজ হয়। জাদুঘরের ভেতরে ছবি তোলার নিয়ম কর্তৃপক্ষের কাছে জেনে নিন।
ছবি





মানচিত্রে অবস্থান
🧭 গুগল ম্যাপে পথনির্দেশনাআরও দর্শনীয় স্থান
মহাস্থানগড়
আড়াই হাজার বছরের পুরোনো পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ — বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর-প্রত্নস্থল এবং ২০১৬ সালের সার্ক সাংস্কৃতিক র…
হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহ.)-এর মাজার
'মাহী সওয়ার' নামে খ্যাত সুফি সাধক শাহ সুলতান বলখীর মাজার; মুঘল আমলের মসজিদ ও দরগা ঘিরে সারা বছর দর্শনার্থীর ভিড়।
ভাসু বিহার (নরপতির ধাপ)
গুপ্তোত্তর যুগের দুটি বৌদ্ধ সংঘারাম ও একটি ক্রুশাকৃতি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ; হিউয়েন সাংয়ের বর্ণিত 'পো-শি-পো' বিহার বলে ধ…