পরশুরামের প্রাসাদ
Palace of Parshuram
মহাস্থানগড়ের ভেতরে তিন নির্মাণযুগের প্রাসাদ-ধ্বংসাবশেষ — পাল আমল থেকে সুলতানি ও অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত স্তর।
মহাস্থানগড়ের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে আবিষ্কৃত নিদর্শনগুলোর মধ্যে পরশুরামের প্রাসাদ অন্যতম। স্থানীয় কিংবদন্তি অনুযায়ী এটি পুণ্ড্রনগরের শেষ হিন্দু রাজা পরশুরামের বাসভবন, যিনি শাহ সুলতান বলখীর সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হন।
খনন
১৯০৭, ১৯৬১ ও ১৯৯৫ সালে তিন দফা খননে এখানে তিনটি ভিন্ন নির্মাণযুগের সন্ধান মেলে:
- প্রথম (সবচেয়ে নিচের) স্তর: পোড়ামাটির চিত্রফলক, পাথরের বিষ্ণুপট্টের ভগ্নাংশ ও প্রচুর কড়ি — পাল আমলের (অষ্টম শতক) বৈশিষ্ট্য
- দ্বিতীয় স্তর: সুলতানি আমলের (পঞ্চদশ-ষোড়শ শতক) মৃৎপাত্রের মতো চকচকে পাত্রের টুকরা
- ওপরের স্তর: অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকের বড় আবাস-ভবন; কোম্পানি আমলের (১৮৩৫–১৮৫৩) দুটি মুদ্রাও পাওয়া গেছে
ভবনের নকশা
ওপরের স্তরে একটি বড় বাসভবনের পূর্ণ নকশা উন্মোচিত হয়েছে — অন্দরমহলের ছোট আঙিনা ঘিরে চারটি পৃথক মহল, বহু কক্ষ, সিঁড়ি, সীমানাপ্রাচীর এবং পূর্ব ও পশ্চিমে দুটি প্রবেশদ্বার। মূল প্রবেশদ্বার পূর্ব দিকে, যার দুই পাশে প্রহরী-কক্ষের চিহ্ন। ছোট ইট, চুন-সুরকির আস্তর ও চুনকাম দেখে এই স্তরকে মুঘল-ব্রিটিশ আমলের মনে করা হয়।
কাছেই
প্রাসাদের ঠিক পাশেই জিয়ৎ কুণ্ড, আর কিছুটা দূরে বৈরাগীর ভিটা ও মানকালীর ঢিবি। মহাস্থানগড় ঘোরার সময় এগুলো পায়ে হেঁটেই দেখা যায়।
ছবি




মানচিত্রে অবস্থান
🧭 গুগল ম্যাপে পথনির্দেশনাআরও দর্শনীয় স্থান
মহাস্থানগড়
আড়াই হাজার বছরের পুরোনো পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ — বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর-প্রত্নস্থল এবং ২০১৬ সালের সার্ক সাংস্কৃতিক র…
মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরে মৌর্য থেকে মুসলিম যুগের মুদ্রা, মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, শিলালিপি ও অলংকার সংরক্ষিত।
হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহ.)-এর মাজার
'মাহী সওয়ার' নামে খ্যাত সুফি সাধক শাহ সুলতান বলখীর মাজার; মুঘল আমলের মসজিদ ও দরগা ঘিরে সারা বছর দর্শনার্থীর ভিড়।