খোদার পাথর ভিটা
Khodar Pathar Bhita
পাল আমলের পূর্বমুখী বৌদ্ধ মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ; এখানকার বিশাল গ্রানাইট চৌকাঠে আজও ভক্তরা দুধ ঢেলে ভক্তি নিবেদন করেন।
মহাস্থানগড়ের মাজার শরিফের পূর্ব দিকের ঢিবিতে খোদার পাথর ভিটা অবস্থিত। ঢিবির ওপরে পড়ে থাকা গ্রানাইট পাথরের এক বিশাল চৌকাঠ থেকেই স্থানীয়রা এর এমন নাম দিয়েছে — "খোদার পাথর" বা ঈশ্বরকে অর্পিত পাথর।
ইতিহাস ও খনন
ধ্বংসাবশেষটি পাল আমলের প্রথম দিকের (আনুমানিক অষ্টম শতক)। ১৯৭০ সালের খননে একটি মন্দির এবং কিছু ছোট প্রত্নবস্তু পাওয়া যায়। খোদাই করা পাথরখণ্ডের মধ্যে একই সারিতে আসীন তিনটি বুদ্ধমূর্তি মিলেছিল, যা এখন রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে সংরক্ষিত।
মন্দিরের গঠন
- আয়তাকার, পূর্বমুখী বৌদ্ধ মন্দির
- মেঝে পাথরে বাঁধানো; ভিতের ওপরের দেয়াল ইটের, কাদামাটিতে গাঁথা
- দরজার বাজু, অলংকৃত অংশ ও সরদল পাথরের তৈরি ছিল বলে অনুমান
- গ্রানাইটের চৌকাঠে দরজার হুড়কো লাগানোর দুটি ছিদ্র এবং উদ্গত ফুলের নকশা
লোকবিশ্বাস
কথিত আছে রাজা পরশুরাম এই পাথর বলিদানের কাজে ব্যবহার করতেন। হিন্দু নারীরা একসময় এ পাথরকে দুধ ও সিঁদুর দিয়ে স্নান করাতেন; এখনো অনেকে খালি পায়ে এসে চৌকাঠে দুধ ঢেলে ভক্তি নিবেদন করেন।
এখন যা দেখবেন
কাঠামোর বেশিরভাগ এখনো মাটির নিচে; ওপরে বিশাল চৌকাঠটি আর পাশের প্রাচীন বটগাছ দেখা যায়।
ছবি



মানচিত্রে অবস্থান
🧭 গুগল ম্যাপে পথনির্দেশনাআরও দর্শনীয় স্থান
মহাস্থানগড়
আড়াই হাজার বছরের পুরোনো পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ — বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর-প্রত্নস্থল এবং ২০১৬ সালের সার্ক সাংস্কৃতিক র…
মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরে মৌর্য থেকে মুসলিম যুগের মুদ্রা, মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, শিলালিপি ও অলংকার সংরক্ষিত।
হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহ.)-এর মাজার
'মাহী সওয়ার' নামে খ্যাত সুফি সাধক শাহ সুলতান বলখীর মাজার; মুঘল আমলের মসজিদ ও দরগা ঘিরে সারা বছর দর্শনার্থীর ভিড়।