জিয়ৎ কুণ্ড (অমর কূপ)
Jiyat Kunda
কিংবদন্তির 'জীবনদায়ী' কূপ — কথিত আছে এর পানি পান করে রাজা পরশুরামের আহত সৈন্যরা বেঁচে উঠত।
মহাস্থানগড়ের দুর্গনগরীর মূল ফটকের কাছে, পরশুরামের প্রাসাদের পাশে জিয়ৎ কুণ্ড অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এটি "অমর কূপ" নামে পরিচিত।
কিংবদন্তি
লোককথা অনুযায়ী এই কূপের পানিতে অলৌকিক ক্ষমতা ছিল — পান করলে মৃত বা আহত সৈনিক আবার জীবিত হয়ে উঠত। শাহ সুলতান বলখীর সঙ্গে যুদ্ধের সময় রাজা পরশুরাম এভাবেই তাঁর সৈন্যদের বাঁচিয়ে রাখতেন। গল্পে আছে, শাহ সুলতান তা জানতে পেরে একটি চিলের মাধ্যমে কূপে এক টুকরো গোমাংস ফেলে দেন, এরপর থেকেই পানির অলৌকিক ক্ষমতা হারিয়ে যায়। ইতিহাসবিদেরা এ কাহিনির কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি পাননি।
ইতিহাস
কূপটি কবে খনন করা হয়েছিল তা নিশ্চিত নয়। অনেকে মনে করেন এলাকার পানির অভাব দূর করতে প্রাসাদ নির্মাণের সময় এটি খোঁড়া হয়েছিল।
গঠন
- উপরিভাগের ব্যাস ৩.৮৬ মিটার, নিচের দিকে ক্রমশ সরু
- ভেতরে ওপরের পূর্ব দিকে একটি চতুষ্কোণ গ্রানাইট পাথর বসানো — সম্ভবত পানি তোলার সুবিধার জন্য
- তলদেশ পর্যন্ত দুই সারিতে পাথরখণ্ড গেঁথে দেওয়া
দেখার সময়
কূপের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী আছে; ঝুঁকে পড়বেন না। পরশুরামের প্রাসাদ দেখার সময়ই এটি দেখে নিন।
ছবি



মানচিত্রে অবস্থান
🧭 গুগল ম্যাপে পথনির্দেশনাআরও দর্শনীয় স্থান
মহাস্থানগড়
আড়াই হাজার বছরের পুরোনো পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ — বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর-প্রত্নস্থল এবং ২০১৬ সালের সার্ক সাংস্কৃতিক র…
মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরে মৌর্য থেকে মুসলিম যুগের মুদ্রা, মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, শিলালিপি ও অলংকার সংরক্ষিত।
হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহ.)-এর মাজার
'মাহী সওয়ার' নামে খ্যাত সুফি সাধক শাহ সুলতান বলখীর মাজার; মুঘল আমলের মসজিদ ও দরগা ঘিরে সারা বছর দর্শনার্থীর ভিড়।