গোবিন্দ ভিটা
Govinda Bhita
করতোয়ার বাঁকে ২০০ × ১২৫ ফুট মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ; আনুমানিক সপ্তম শতকে নির্মিত, একাধিকবার পুনর্নির্মিত।
মহাস্থান দুর্গনগরীর উত্তরে, জাহাজঘাটা থেকে প্রায় ১৮৫ মিটার উত্তর-পূর্বে করতোয়া নদীর বাঁকে গোবিন্দ ভিটা অবস্থিত। এর ঠিক সামনে মহাস্থান জাদুঘর।
নামের রহস্য
গোবিন্দ ভিটা মানে গোবিন্দ বা বিষ্ণুর আবাস। দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতকে রচিত সংস্কৃত গ্রন্থ "করতোয়া মাহাত্ম্য"-এ এই মন্দিরের উল্লেখ আছে। তবে খননে বৈষ্ণব ধর্মের কোনো সুনির্দিষ্ট নিদর্শন পাওয়া যায়নি; তবুও নামটি টিকে আছে।
খনন ও স্থাপত্য
১৯২৮–২৯ সালে প্রথম খনন হয়, পরে আরও কয়েক দফায়। এখানে ২০০ × ১২৫ ফুট আয়তনের একটি মন্দির-কমপ্লেক্সের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। ইটের মাপ, মসলা ও স্থাপত্যবিন্যাস দেখে গবেষকেরা মনে করেন মূল মন্দির সপ্তম শতকের এবং পরে কয়েকবার পুনর্নির্মিত হয়েছে। তবে এখানে খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে পঞ্চদশ শতক পর্যন্ত বসতির চিহ্নও মিলেছে।
প্রাপ্ত নিদর্শন
- ছাঁচে ঢালা তামার মুদ্রা ও রৌপ্যমুদ্রা
- উত্তর ভারতীয় কালো চকচকে মৃৎপাত্রের টুকরা
- শুঙ্গ যুগের শিল্পরীতির পোড়ামাটির ফলক
- ব্রাহ্মী হরফ খোদিত পোড়ামাটির সিল
- স্বল্পমূল্যবান পাথরের গুটিকা
দেখার সময়
জাদুঘরের সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে সকালে গেলে দুটো একসঙ্গে দেখা যায়। নদীর দিকের অংশ থেকে করতোয়ার দৃশ্যও উপভোগ্য। এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত পুরাকীর্তি।
ছবি




মানচিত্রে অবস্থান
🧭 গুগল ম্যাপে পথনির্দেশনাআরও দর্শনীয় স্থান
মহাস্থানগড়
আড়াই হাজার বছরের পুরোনো পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ — বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর-প্রত্নস্থল এবং ২০১৬ সালের সার্ক সাংস্কৃতিক র…
মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরে মৌর্য থেকে মুসলিম যুগের মুদ্রা, মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, শিলালিপি ও অলংকার সংরক্ষিত।
হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহ.)-এর মাজার
'মাহী সওয়ার' নামে খ্যাত সুফি সাধক শাহ সুলতান বলখীর মাজার; মুঘল আমলের মসজিদ ও দরগা ঘিরে সারা বছর দর্শনার্থীর ভিড়।