বিহার ধাপ (তোতারাম পণ্ডিতের ধাপ)
Bihar Dhap
নাগর নদীর তীরে দুটি বৌদ্ধ বিহার ও দুটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ; হাজারের বেশি প্রত্নবস্তু ও দেশের অনন্য 'বজ্রলেপ' এখানে পাওয়া গেছে।
বিহার ধাপ স্থানীয়ভাবে "তোতারাম পণ্ডিতের ধাপ" বা "তোতারাম পণ্ডিতের বাড়ি" নামে পরিচিত। এর পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক দিয়ে বয়ে গেছে নাগর নদী। ভাসু বিহার থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে।
ইতিহাস
অনেক গবেষকের মতে হিউয়েন সাং বর্ণিত "পো-সি-পো" বিহার এটিই। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক খননে পশ্চিম অংশে পাশাপাশি দুটি বৌদ্ধ বিহার এবং পূর্বে একটি মন্দির উন্মোচিত হয়। ২০০৫–০৬ সালের খননে আরও একটি উত্তরমুখী মন্দিরের অংশ পাওয়া যায়।
নির্মাণকাল
- প্রথম নির্মাণযুগ: চতুর্থ-পঞ্চম শতক
- দ্বিতীয়-তৃতীয় নির্মাণযুগ: ষষ্ঠ থেকে দশম শতক
- একাদশ-দ্বাদশ শতকের মাঝামাঝি কোনো সময়ে বিহারটির পতন ঘটে
স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য
- একসময় ঢিবিটি প্রায় ২৫০ × ২২০ মিটার এবং ২ মিটার উঁচু ছিল
- খনন করা বিহার: ৫৭ × ৬১ মিটার; মাঝের আঙিনা ঘিরে ৩৭টি ভিক্ষুকক্ষ
- কক্ষের দেয়াল ২ থেকে ২.৬ মিটার পুরু
- একটি মন্দিরে ছয়টি ধাপ এবং ইটের গুঁড়া ও কাদামাটির ২ সেমি পুরু পলেস্তারা — যাকে "বজ্রলেপ" বলে; বাংলাদেশের আর কোনো প্রাচীন মন্দিরে এটি পাওয়া যায়নি
প্রাপ্ত নিদর্শন
এক হাজারের বেশি প্রত্নবস্তু — ধ্যানমগ্ন ব্রোঞ্জের বুদ্ধমূর্তি, রৌপ্যমুদ্রা, কাচের পুঁতি, ৬০টি পোড়ামাটির ফলক, সিলমোহর, ধূপদানি, শতাধিক নকশা করা ইট, লোহার পেরেক।
যাতায়াত
ভাসু বিহার দেখার পথেই বিহার ধাপ — মহাস্থান বাসস্ট্যান্ড থেকে অটো বা সিএনজি।
ছবি




মানচিত্রে অবস্থান
🧭 গুগল ম্যাপে পথনির্দেশনাআরও দর্শনীয় স্থান
মহাস্থানগড়
আড়াই হাজার বছরের পুরোনো পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ — বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর-প্রত্নস্থল এবং ২০১৬ সালের সার্ক সাংস্কৃতিক র…
মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরে মৌর্য থেকে মুসলিম যুগের মুদ্রা, মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, শিলালিপি ও অলংকার সংরক্ষিত।
হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহ.)-এর মাজার
'মাহী সওয়ার' নামে খ্যাত সুফি সাধক শাহ সুলতান বলখীর মাজার; মুঘল আমলের মসজিদ ও দরগা ঘিরে সারা বছর দর্শনার্থীর ভিড়।