করতোয়া নদী
Karatoya River
মহাভারতে পবিত্র নদী হিসেবে বর্ণিত করতোয়ার তীরেই গড়ে উঠেছিল পুণ্ড্রনগর; আজ বগুড়া শহরকে দুই ভাগে ভাগ করে বয়ে চলেছে।
করতোয়া প্রাচীন বাংলার অন্যতম পবিত্র ও ঐতিহাসিক নদী। বগুড়া শহর এর দুই তীরে গড়ে উঠেছে, আর মহাস্থানগড় অবস্থিত এর পশ্চিম তীরে।
নামের অর্থ
"কর" (হাত) আর "তোয়া" (পানি) — হিন্দু কিংবদন্তি অনুযায়ী পার্বতীকে বিয়ের সময় শিবের হাতে ঢালা পানি থেকে এ নদীর সৃষ্টি।
প্রাচীন গৌরব
- মহাভারতে বলা আছে, তিন দিন উপবাসের পর করতোয়ায় স্নান অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান পুণ্য দেয়
- শতপথ ব্রাহ্মণে করতোয়াকে "সদানীরা" বলা হয়েছে
- চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং সপ্তম শতকে একে বিশাল নদী হিসেবে বর্ণনা করেছেন
- ত্রয়োদশ শতকে বখতিয়ার খলজির অভিযানের সময় করতোয়া গঙ্গার চেয়ে তিনগুণ প্রশস্ত ছিল বলে সিয়ার-আল-মুতাক্ষেরিনে উল্লেখ আছে
- "করতোয়া মাহাত্ম্য" গ্রন্থে এ নদীর মাহাত্ম্য বর্ণিত
গতিপথের পরিবর্তন
টেকটোনিক পরিবর্তন ও ১৭৮৭ সালের মহাবন্যায় তিস্তার গতিপথ বদলালে করতোয়া চার ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বগুড়ার অংশটি এখন "করতোয়া নিম্ন নদী" নামে পরিচিত; বাংলাদেশে নদীটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮৭ কিমি।
বর্তমান অবস্থা
এককালের প্রমত্তা নদী এখন শহরাংশে অনেকটাই ক্ষীণ। দখল ও দূষণ থেকে করতোয়া রক্ষা এবং পুনঃখননের দাবি দীর্ঘদিনের।
দেখার জায়গা
শহরের ফতেহ আলী সেতু, নবাব বাড়ির পূর্ব পাশ, মহাস্থানের জাহাজঘাটা ও শীলাদেবীর ঘাট থেকে করতোয়ার দৃশ্য দেখা যায়।
উইকিপিডিয়া থেকে (ইংরেজি)
Karatoya River is a small stream in Rajshahi Division of Bangladesh.
উইকিপিডিয়ায় বিস্তারিত পড়ুন →ছবি



মানচিত্রে অবস্থান
🧭 গুগল ম্যাপে পথনির্দেশনাআরও দর্শনীয় স্থান
গোকুল মেধ (বেহুলার বাসরঘর)
১৭২টি বদ্ধ কক্ষবিশিষ্ট ধাপে ধাপে উঁচু ইটের স্থাপনা — লোকমুখে বেহুলা-লখিন্দরের বাসরঘর, প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে প্রাচীন বৌদ…
জাদুঘরনবাব বাড়ি ও মোহাম্মদ আলী প্যালেস জাদুঘর
বগুড়ার নবাব পরিবারের ঐতিহাসিক প্রাসাদ, এখন ভাস্কর্যে সাজানো জাদুঘর ও বিনোদন পার্ক; ২০১৬ সালে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষিত।
সাতমাথা ও বীরশ্রেষ্ঠ স্মৃতিস্তম্ভ
সাতটি সড়কের মিলনস্থল — বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র; এখানে সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতিসহ স্মৃতিস্তম্ভ।