
নবাব বাড়ি ও মোহাম্মদ আলী প্যালেস জাদুঘর
Mohammad Ali Palace Museum
বগুড়ার নবাব পরিবারের ঐতিহাসিক প্রাসাদ, এখন ভাস্কর্যে সাজানো জাদুঘর ও বিনোদন পার্ক; ২০১৬ সালে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষিত।
শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথার কাছে, করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে বগুড়ার নবাবদের ঐতিহ্যবাহী বাসভবন — নবাব বাড়ি। এর ভেতরেই গড়ে উঠেছে মোহাম্মদ আলী প্যালেস মিউজিয়াম অ্যান্ড পার্ক। ২০১৬ সালের মে মাসে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর একে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা করে।
ইতিহাস
নবাব সৈয়দ আবদুস সোবহান চৌধুরী, নবাবজাদা সৈয়দ আলতাফ আলী চৌধুরী ও পরে সৈয়দ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী (পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী বগুড়া) এই পরিবারের সদস্য। ১৯৯৮ সালের মে মাসে নবাববাড়িকে জাদুঘর ও বিনোদন পার্ক হিসেবে খুলে দেওয়া হয়। শিল্পী আমিনুল করিম দুলালের হাতে তৈরি ভাস্কর্যে নবাবি আমলের জীবনযাত্রা জীবন্ত করে তোলা হয়েছে।
যা দেখবেন
- দ্বিতল মূল ভবন: ওপরে ৮টি কক্ষ, নিচে ১৬টি কক্ষ; সঙ্গে কারুভবন ও কর্মচারীদের ভবন
- নবাব পরিবারের সদস্যদের প্রতিকৃতি সাজানো হলরুম
- জলসাঘরে জলসার দৃশ্য, নায়েবের খাজনা আদায়, বিলিয়ার্ড খেলা, পড়ার ঘর, অতিথি আপ্যায়ন — ভাস্কর্যে পুনর্নির্মিত
- নেপালি দারোয়ান, মালি, পালকি-বেহারা, কোচোয়ান, টমটম এবং সিংহ, বাঘ, কুমির, ময়ূরের প্রতিমূর্তি
- তিনটি ফটক — প্রথমটি খোলা, দ্বিতীয়টি লোহার, তৃতীয়টি কাঠের; প্রধান ফটকে ঝোলানো ঘণ্টা ও সার্চলাইট
- বিশাল উঠানে ৭১টি ছোট-বড় গাছ; পুরো চত্বর প্রায় ৭.৫–১১ একর
বিনোদন
ছোট ট্রেন, দোলনা, বিমানসহ শিশুদের রাইড আছে — প্রতিটির জন্য আলাদা টিকিট।
সময় ও টিকিট (প্রচলিত)
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে বলে জানা যায়; প্রবেশ টিকিট লাগে এবং রাইডের টিকিট আলাদা। মূল্য পরিবর্তন হতে পারে।
যাতায়াত
সাতমাথা থেকে পূর্ব দিকে কোর্ট ভবনের পথে হেঁটেই যাওয়া যায় (১০ মিনিট)। পাশেই সার্কিট হাউস ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
ছবি





মানচিত্রে অবস্থান
🧭 গুগল ম্যাপে পথনির্দেশনাআরও দর্শনীয় স্থান
গোকুল মেধ (বেহুলার বাসরঘর)
১৭২টি বদ্ধ কক্ষবিশিষ্ট ধাপে ধাপে উঁচু ইটের স্থাপনা — লোকমুখে বেহুলা-লখিন্দরের বাসরঘর, প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে প্রাচীন বৌদ…
সাতমাথা ও বীরশ্রেষ্ঠ স্মৃতিস্তম্ভ
সাতটি সড়কের মিলনস্থল — বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র; এখানে সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতিসহ স্মৃতিস্তম্ভ।
এডওয়ার্ড পার্ক ও শহীদ খোকন পার্ক
ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যবাহী পৌর উদ্যান; পাশে শহীদ খোকন শিশু পার্ক, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ।