গোকুল মেধ (বেহুলার বাসরঘর)
Gokul Medh
১৭২টি বদ্ধ কক্ষবিশিষ্ট ধাপে ধাপে উঁচু ইটের স্থাপনা — লোকমুখে বেহুলা-লখিন্দরের বাসরঘর, প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে প্রাচীন বৌদ্ধ স্থাপনা।
বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে, গোকুল, রামশহর ও পলাশবাড়ি গ্রামের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছে উঁচু টিলার মতো এক রহস্যময় স্থাপনা — গোকুল মেধ। স্থানীয়রা একে "বেহুলার বাসরঘর" বা "লক্ষ্মীন্দরের মেধ" বলে।
লোককথা
মনসামঙ্গল কাব্যে চাঁদ সওদাগরের পুত্র লখিন্দরকে সাপের দংশন থেকে বাঁচাতে লোহার বাসরঘর বানানো হয়েছিল। লোকবিশ্বাস, সেই বাসরঘর এখানেই — তাই এই নাম। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে স্থাপনাটি সেই কাহিনির অনেক পরের।
প্রত্নতাত্ত্বিক পরিচয়
- প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মতে আনুমানিক সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে নির্মিত; অনেক গবেষক একে পাল সম্রাট দেবপালের (৮০৯–৮৪৭) আমলের বৌদ্ধ মঠ বা স্তূপ মনে করেন
- বাইরে থেকে টিলার মতো হলেও ভেতরে ১৭২টি বদ্ধ কক্ষ সমান দূরত্বে সাজানো — এগুলো মূলত উঁচু মঞ্চ তৈরির ভিত্তি
- খননে ষাঁড়ের প্রতিকৃতি আঁকা একটি স্বর্ণপত্র ও বহু গর্তযুক্ত পাথর পাওয়ায় অনেকে এখানে একটি শিবমন্দির ছিল বলে মনে করেন
- কিছু ঐতিহাসিক গ্রন্থে একে পুণ্ড্রনগর রক্ষার পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বলা হয়েছে
- চূড়ার কাছে প্রায় ৪৫ ফুট উঁচু স্তম্ভ এবং ২৪ কোণবিশিষ্ট চৌবাচ্চাসদৃশ স্নানাগার, যার ভেতরে ছিল ৮ ফুট গভীর কূপ
দেখার অভিজ্ঞতা
ধাপে ধাপে উঠে চূড়ায় দাঁড়ালে চারপাশের সবুজ গ্রাম, ফসলের মাঠ আর দূরে মহাস্থানগড় চোখে পড়ে। বিকেলে এখানকার দৃশ্য বিশেষভাবে সুন্দর।
প্রবেশমুখের বারী পান
গোকুল মেধের ঠিক প্রবেশমুখে ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত "বারী পান" দোকানের মিষ্টি পান দর্শনার্থীদের কাছে খুব জনপ্রিয় — এটি নিজেই এখন একটি ল্যান্ডমার্ক।
যাতায়াত
বগুড়া শহর থেকে মহাস্থানগামী বাস বা সিএনজিতে গোকুল মোড়ে নেমে রিকশায় অল্প পথ। মহাস্থানগড় ঘোরার দিনেই এটি দেখে নেওয়া যায়।
সতর্কতা
ঢিবির কিনারায় রেলিং নেই — শিশুদের দিকে খেয়াল রাখুন; ইট খুলে নেবেন না।
উইকিপিডিয়া থেকে (ইংরেজি)
Gokul Medh is an archaeological site in Bangladesh. It is an excavated mound in the village of Gokul in Bogra Sadar Upazila, Bogra, about 2 km southwest of Mahasthangarh. It is also known as Lakshindar Medh, as it is known in local Bengali folklore as the bridal chamber of Behula and Lakshinder, protagonists of an old Bengali ballad. The mound served as the base of a Buddhist shrine or stupa built from the 7th century AD onwards.
উইকিপিডিয়ায় বিস্তারিত পড়ুন →ছবি





মানচিত্রে অবস্থান
🧭 গুগল ম্যাপে পথনির্দেশনাআরও দর্শনীয় স্থান
জাদুঘরনবাব বাড়ি ও মোহাম্মদ আলী প্যালেস জাদুঘর
বগুড়ার নবাব পরিবারের ঐতিহাসিক প্রাসাদ, এখন ভাস্কর্যে সাজানো জাদুঘর ও বিনোদন পার্ক; ২০১৬ সালে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষিত।
সাতমাথা ও বীরশ্রেষ্ঠ স্মৃতিস্তম্ভ
সাতটি সড়কের মিলনস্থল — বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র; এখানে সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতিসহ স্মৃতিস্তম্ভ।
এডওয়ার্ড পার্ক ও শহীদ খোকন পার্ক
ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যবাহী পৌর উদ্যান; পাশে শহীদ খোকন শিশু পার্ক, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ।