খেরুয়া মসজিদ
Kherua Mosque
১৫৮২ সালে নির্মিত তিন গম্বুজের মসজিদ — সুলতানি ও মুঘল স্থাপত্যরীতির অনন্য মেলবন্ধন, ৪৪০ বছর ধরে নিয়মিত নামাজ হয়।
বগুড়া শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে শেরপুর উপজেলা সদরের খন্দকারটোলা মহল্লায় সবুজ গাছপালায় ঘেরা নিরিবিলি চত্বরে দাঁড়িয়ে আছে খেরুয়া মসজিদ। চার শতাব্দীরও বেশি পুরোনো হয়েও এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় হয়।
ইতিহাস
সামনের দেয়ালের শিলালিপি অনুযায়ী ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে (৯৮৯ হিজরি) জওহর আলী কাকশালের পুত্র মির্জা মুরাদ খান কাকশাল মসজিদটি নির্মাণ করেন। "কাকশাল" ছিল তুর্কিদের দেওয়া উপাধি। সে সময় শেরপুর ছিল ঘোড়াঘাট অঞ্চলের একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র, আর মির্জা মুরাদ সম্ভবত শেরপুরের জায়গিরদার বা ফৌজদার ছিলেন।
নামের রহস্য
"খেরুয়া" শব্দের উৎস নিশ্চিত নয়; আরবি-ফারসিতে এমন শব্দ নেই। ফারসি "খায়ের গাহ্" (কোনো স্থানের ভেতরে) থেকে নামটি আসতে পারে বলে অনুমান — রাজা মানসিংহ বাংলার সুবাদার থাকাকালে শেরপুরে একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন, মসজিদটি হয়তো সেই দুর্গের ভেতরে ছিল।
স্থাপত্য
- বাইরের দিক থেকে উত্তর-দক্ষিণে ১৭.২৭ মিটার লম্বা, প্রস্থ ৭.৪২ মিটার
- চুন-সুরকিতে গাঁথা পাতলা লাল ইটের দেয়াল ১.৮১ মিটার পুরু
- ছাদে ৩.৭১ মিটার ব্যাসের তিনটি অর্ধগোলাকার গম্বুজ
- চার কোণে দেয়াল থেকে খানিকটা সামনে চারটি বিশাল মিনার
- ধনুকের মতো বাঁকা কার্নিশ, তার নিচে সারিবদ্ধ খিলান-আকৃতির প্যানেল
- পূর্ব দেয়ালে তিনটি খিলান দরজা (মাঝেরটি বড়), উত্তর-দক্ষিণে একটি করে; বড় দরজার নিচে কালো পাথরের পাটাতন
- পশ্চিম দেয়ালে তিনটি কারুকার্যখচিত মেহরাব
- নিচের অংশের ভূমি-পরিকল্পনা মুঘল রীতির, ওপরের অংশ সুলতানি রীতির
চত্বর
প্রায় ৫৯ শতাংশ জায়গাজুড়ে সবুজ ঘাসের মাঠ, তাল-নারকেল-আম-কদমের সারি আর মৌসুমি ফুলের গাছ। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সীমানাপ্রাচীর ও লোহার রেলিং দিয়ে চত্বরটি সংরক্ষণ করেছে।
যাতায়াত
ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কে শেরপুর বাসস্ট্যান্ডে নেমে রিকশা/অটোতে খন্দকারটোলা (প্রায় ১.৫ কিমি)। বগুড়া শহর থেকে শেরপুরগামী বাসে ৩০–৪০ মিনিট।
পরামর্শ
নামাজের সময় এড়িয়ে যান, মসজিদের ভেতরে শালীন পোশাক ও নীরবতা বজায় রাখুন। একই দিনে ভবানীপুর শক্তিপীঠ ও শেরপুরের দই চেখে আসতে পারেন।
উইকিপিডিয়া থেকে (ইংরেজি)
Kherua Mosque is a 16th-century mosque in Sherpur, Bogra, built in the early Mughal era. According to the inscription found in the mosque, it was built by Nawab Mirza Murad Khan, son of Jauhar Ali Khan Qaqshal, in 1582 AD.
উইকিপিডিয়ায় বিস্তারিত পড়ুন →ছবি





মানচিত্রে অবস্থান
🧭 গুগল ম্যাপে পথনির্দেশনাআরও দর্শনীয় স্থান
ভবানীপুর শক্তিপীঠ
সতীর একান্ন শক্তিপীঠের অন্যতম; চার একরের মন্দির চত্বরে মূলমন্দির, শিবমন্দির ও কিংবদন্তির শাঁখা পুকুর।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)
১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ উন্নয়ন গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান — ৪৮.৫ হেক্টরের সবুজ ক্যাম্পাসে খামার, লেক ও গবেষণা ম…