সুলতানি আমল ও বগুড়ার নামকরণ
Sultanate period
সুলতান বলবনের পুত্র নাসিরউদ্দিন বুগরা খান বাংলার স্বাধীন সুলতান হন — তাঁর নামেই এই অঞ্চলের নাম বগুড়া।
ত্রয়োদশ শতকের শুরুতে বখতিয়ার খলজির বাংলা অভিযানের পর উত্তরবঙ্গ মুসলিম শাসনের অধীনে আসে। তবে সেন বংশের স্থানীয় রাজারা আরও অনেক দিন সামন্ত হিসেবে টিকে ছিলেন।
বুগরা খান কে ছিলেন
নাসিরউদ্দিন মাহমুদ বুগরা খান ছিলেন দিল্লির মামলুক সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের কনিষ্ঠ পুত্র। মোঙ্গল আক্রমণ ঠেকাতে তিনি প্রথমে পাঞ্জাবের সামানা-সুনামের শাসক ছিলেন। ১২৮০–৮১ সালে বাংলার বিদ্রোহী শাসক তুগরল খানকে দমনের পর বলবন তাঁকে লখনৌতির (বাংলার) গভর্নর নিযুক্ত করেন।
দিল্লির সিংহাসন প্রত্যাখ্যান
জ্যেষ্ঠ যুবরাজ মুহাম্মদ মোঙ্গলদের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত হলে বলবন বুগরা খানকে দিল্লির উত্তরাধিকারী করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শান্তিপ্রিয় বুগরা খান দিল্লির দরবারি ষড়যন্ত্র এড়িয়ে বাংলায় ফিরে আসেন। ১২৮৭ সালে বলবনের মৃত্যুর পর তিনি বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন — অনেক ইতিহাসবিদের মতে এখান থেকেই দিল্লি থেকে বাংলার দীর্ঘ স্বাতন্ত্র্যের সূচনা।
নাম থেকে "বগুড়া"
বুগরা খানের নামানুসারে অঞ্চলটির নাম হয় "বগড়া"। কালের পরিক্রমায় তা "বগুড়া" হয়ে যায়। ইংরেজিতে দীর্ঘদিন Bogra লেখা হলেও ২০১৮ সালে সরকারিভাবে বানান হয় Bogura।
সুলতানি-মুঘল স্থাপত্য
এই আমলে জেলায় অনেক মসজিদ ও দরগা গড়ে ওঠে। শেরপুরের খেরুয়া মসজিদ (১৫৮২) সুলতানি ও মুঘল রীতির মিশ্রণের অনন্য উদাহরণ। মহাস্থানগড়ে শাহ সুলতান বলখীর মাজার-সংলগ্ন এক গম্বুজ মসজিদটি ১৭১৯ সালে মুঘল সম্রাট ফররুখসিয়ারের আমলে নির্মিত।
উইকিপিডিয়া থেকে (ইংরেজি)
Nasiruddin Bughra Khan was the governor (1281–1287) and later the independent sultan of Bengal (1287–1291). Of Turkic origin, he was the son of Delhi Sultan Ghiyasuddin Balban. Earlier Bughra Khan was the governor of Samana (Patiala) and Sanam (Sangrur).
উইকিপিডিয়ায় বিস্তারিত পড়ুন →ছবি


আরও ইতিহাস ও ঐতিহ্য
এক নজরে বগুড়া
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়া — ১৮২১ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী বিভাগের জনবহুল জেলা; আয়তন ২,৮৯৮.৬৮ বর্গকিমি, জনসংখ্যা ৩৭…
প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন ও পুণ্ড্রনগর
আড়াই হাজার বছর আগের পুণ্ড্রবর্ধন জনপদের রাজধানী পুণ্ড্রনগর ছিল আজকের মহাস্থানগড় — বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরসভ্যতার নিদর…
মুক্তিযুদ্ধে বগুড়া
১৯৭১ সালে বগুড়া ছিল ৭ নম্বর সেক্টরের অধীন; মার্চেই শুরু হয় প্রতিরোধ, আর ডিসেম্বরে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর অভিযানে…