ব্রিটিশ আমল ও জেলা প্রতিষ্ঠা
British period
১৮২১ সালে রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুরের কয়েকটি থানা নিয়ে বগুড়া জেলা গঠিত হয়; এ সময়েই স্কুল, পৌরসভা, রেলপথ ও লাইব্রেরি গড়ে ওঠে।
১৮২০ সাল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ প্রশাসনিকভাবে রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর — এই তিন বিশাল জেলায় ভাগ ছিল। প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ১৮২১ সালে এই তিন জেলা থেকে কয়েকটি থানা কেটে নতুন বগুড়া জেলা গঠন করা হয়।
যে থানাগুলো নিয়ে জেলা গঠিত হয়
- রাজশাহী থেকে: আদমদীঘি, শেরপুর, নৌখিলা ও বগুড়া
- রংপুর থেকে: দেওয়ানগঞ্জ ও গোবিন্দগঞ্জ
- দিনাজপুর থেকে: লালবাজার, ক্ষেতলাল ও বদলগাছী
আধুনিক প্রতিষ্ঠানের সূচনা
- ১৮৫৩: বগুড়া জিলা স্কুল — জেলার প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ
- ১৮৫৪: উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরি (প্রথমে করতোয়ার তীরে কাঠের ভবনে)
- ১৮৬৯: ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল (আজকের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়)
- ১৮৭৬: বগুড়া পৌরসভা — শুরুতে মাত্র ৭ হাজার মানুষ ও তিনটি ওয়ার্ড
- ১৮৭৮–১৯০১: সান্তাহার হয়ে রেলপথ; ১৮৯৯–১৯০০ সালে সান্তাহার–ফুলছড়ি মিটারগেজ লাইনে বগুড়া রেলস্টেশন
- ১৮৮৩: করতোয়ার তীরে বগুড়া জেলা কারাগার
- ১৯৩৯: আজিজুল হক কলেজ (প্রথমে "বগুড়া কলেজ")
নবাব পরিবার
করতোয়ার পশ্চিম তীরের নবাব বাড়ি ছিল বগুড়ার নবাবদের বাসভবন। নবাব আবদুস সোবহান চৌধুরী, নবাব আলতাফ আলী চৌধুরী প্রমুখ শিক্ষা ও জনকল্যাণে ভূমিকা রাখেন। এই পরিবারেরই সন্তান সৈয়দ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
স্বাধীনতা আন্দোলন
অষ্টাদশ শতকের শেষে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের অন্যতম কেন্দ্র ছিল বগুড়া-রংপুর অঞ্চল। বিংশ শতকের গোড়ায় বগুড়ার বিহার গ্রামের সন্তান প্রফুল্ল চাকী ক্ষুদিরাম বসুর সঙ্গে মুজাফফরপুর অভিযানে অংশ নিয়ে অগ্নিযুগের কিংবদন্তি হয়ে আছেন।
ছবি



আরও ইতিহাস ও ঐতিহ্য
এক নজরে বগুড়া
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়া — ১৮২১ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী বিভাগের জনবহুল জেলা; আয়তন ২,৮৯৮.৬৮ বর্গকিমি, জনসংখ্যা ৩৭…
প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন ও পুণ্ড্রনগর
আড়াই হাজার বছর আগের পুণ্ড্রবর্ধন জনপদের রাজধানী পুণ্ড্রনগর ছিল আজকের মহাস্থানগড় — বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরসভ্যতার নিদর…
মুক্তিযুদ্ধে বগুড়া
১৯৭১ সালে বগুড়া ছিল ৭ নম্বর সেক্টরের অধীন; মার্চেই শুরু হয় প্রতিরোধ, আর ডিসেম্বরে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর অভিযানে…